অতীত ও বর্তমান, কবে হবে পরিবর্তন?

Spread the love

কবে হবে পরিবর্তন?

ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে আমরা প্রায় সবাই অন্যের বা নিজেই নিজের কাছে এই প্রশ্নটি উত্থাপন করে থাকি । পরিস্থিতি হতে পারে মানবিক বা সিস্টেম কেন্দ্রিক ৷ হতে পারে বেদনার বা তামাশার ৷ ছোট-বড় প্রায় সবার মুখ থেকে এ প্রশ্নটি বের হয়েই যায় ৷ পরিবর্তনটা কিসের ও কেন ? আসলেই কি পরিবর্তন হচ্ছে বা পরিবর্তনের কোন দেখা মিলেছে কিংবা মিলবেই বা কি ? এ প্রশ্নগুলোও দখল করে নেয় বিবেকের জগতটিকে ৷ উত্তর: হ্যাঁ ৷ পরিবর্তন হচ্ছে, অবশ্যই হচ্ছে ৷ আমরা যদি স্বাভাবিক দৃষ্টিতেই তাকিয়ে দেখি তাহলেই দেখতে পাবো এর বাস্তব দৃশ্য । আর তখনই বলতে বাধ্য হবো- হ্যাঁ, পরিবর্তন তো হচ্ছেই ৷

যেমন: “আমরা পরিবর্তনের প্রশ্ন করি অল্পবয়সী বা ছোটদের ক্ষেত্রে; বলে থাকি এরা কি সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ভালো মানুষ হয়ে গড়ে ওঠবে না ? এরা কি বড়দেরকে সম্মান ও শ্রদ্ধার পাত্র হিসেবে মেনে নিবে না ? আর কতদিন উশৃংখল রবে, কবে হবে এদের মানসিকতার পরিবর্তন ? বলতে বাধ্য হই- হ্যাঁ এদের মাঝে পরিবর্তন হয়েছে এবং দিন-দিন হয়েই চলেছে ৷ আগেরকালের ছোটরা বড়দেরকে যথেষ্ট সম্মান করতো ৷ ছোটরা যদি বসে থাকতো, তখন কোন মুরুব্বি বা তাদের থেকে বয়সে বড় কেউ আসলে আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে যেতো । এতটাই সম্মান করতো ৷ বয়সে বড়জনেরা কোন আদেশ করলে কোন প্রশ্ন ছাড়াই তা মেনে নিতো এবং যথাযথ পালনও করতো ৷ বড়দের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলাকে বেয়াদবি মনে করতো ৷ উঁচু আওয়াজে কথা বলার চিন্তাই মাথায় আসতো না ৷ আর এখন তো সেই বিষয়গুলোর পরিবর্তন হয়েছেই; এখন আর ছোট-বড়’র মাঝে সাইজ ব্যতিত অন্য কোন দিক দিয়ে কোন তফাৎ খোঁজে পাওয়া যায় না । সবাই সমান ৷ যে যার মত করে চলছে, যা ইচ্ছা তাই বলছে-করছে ৷ বড়দের দেখে সম্মানে ও আদব রক্ষার্থে আসন ছেড়ে দাঁড়াবে তো দূরের কথা গায়ে হাত তোলতেও দ্বীধাবোধ করে না ৷ হ্যাঁ, এখানেই হয়েছে পরিবর্তন ৷ কে বলেছে পরিবর্তন হয়নি ! পরিবর্তন হয়েছে ও হচ্ছে !”

“প্রশ্ন করে থাকি বড়দের ক্ষেত্রে; অদূর পূর্বকালের বড়রা ছোটদেরকে স্নেহ করতো ও ভালবাসার আদরে আগলে রাখতো ৷ তাদের চলা পথকেই অনুস্মরণ করা হতো ৷ তাদের বলা কথাকেই অমূল্য বাণী মনে করা হতো । তাদের কথা আমলে নিয়ে মানা হতো এবং তাতে দেশ-জাতি ও সমাজের কল্যাণ ও মঙ্গল নিহিত ছিল । এতে করে শৃঙ্খলাও বজায় থাকতো ৷ কোন প্রকার অসুবিধা বা বিপদ সম্মুখী হলে, তারা সবার আগে সেই বিপদের মোকাবেলা করতো ৷ এক কথায়, বড়জনেরা ছিল ছোটদের আইডল, শিক্ষক ও রক্ষক ৷ কিন্তু আজ পরিবর্তন হয়েছে; ছোটদের প্রতি তাদের সেই স্নেহ-ভালবাসা ও আদর আর নেই ৷ নেই সমাজের কোন দায়িত্বভারের চিন্তা-চেতনা ৷ তাদের কথা এখন দেশ-জাতির খুব একটা কল্যাণ বয়ে আনে না; বরং ক্ষতির আশংকায় জর্জরিত । তারা এখন রক্ষকের তালিকা থেকে নিজেদের নাম মুছিয়ে নিয়ে ভক্ষক সাজতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে ৷ বিপদ সম্মুখী হলে ছোটদেরকে গা বাঁচানোর ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে উল্লসিত হয় ৷ উপদেশ নয়, এখন তারা আদেশ করে আয়েশী রাজত্ব করাতেই আনন্দ খোঁজে নেয় ৷ এখানেও তো পরিবর্তন দৃশ্যমান ৷ কে বলেছে পরিবর্তন হয়নি ! পরিবর্তন হয়েছে ও হচ্ছে !

“প্রশ্ন করি তরুণ-তরুণীদেরকে নিয়ে; তরুণরা সর্বকালেই দেশ ও জাতির অমূল্য রত্ন ৷ ভারী অস্ত্রের চেয়েও বেশি শক্তির অধিকারী ৷ যাদের হাতের লাঠি নয়, শুধুমাত্র মুখের গর্জনেই পৃথিবী কম্পীত হয় ৷ দেশ-জাতি নিয়ে যাদের চিন্তা-ভাবনা সুদূর প্রসারিত ৷ সবার তরে নিজকে বিলিয়ে দিতে যারা সদা প্রস্তুত সেবায় নিয়োজিত ৷ এখন, তাদেরও অনেক পরিবর্তন হয়েছে; আগের মত রত্নসম আর নেই ৷ শক্তির কমতি ঘটেছে ৷ হিংস্র প্রাণীর হুংকারের পরিবর্তে এখন তার শিকারে পরিণত হয়েছে ৷ দেশ-জাতির চিন্তা-ভাবনা খুব কম । প্রেমিক-প্রেমিকা ও মাদকাসক্তির পিছনেই চিন্তা-চেতনার মৃত্যু ঘটেছে ৷ মদ, গাঁজা, হিরোইন ইত্যাদি এজাতীয় নেশার সমুদ্রে সাঁতার কাটছে ৷ আরো অনেক কিছু…! এখানেও তো প্রকাশ্যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে । কে বলেছে পরিবর্তন হয়নি ! পরিবর্তন হয়েছে ও হচ্ছে !

“প্রশ্ন করে থাকি রাজনীতি ও রাজনৈতিক ব্যক্তি প্রসঙ্গে; রাজনীতি মানেই যেখানে নীতির রাজত্ব চলে ৷ ন্যায়-নীতিবান ব্যক্তিই যে রাজত্বের দায়িত্ববান নায়ক হয়ে থাকে ৷ দেশের মানুষের সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরামর্শ বা গণতান্ত্রিক ভোটের মাধ্যমে দায়িত্বের আসনে বসানো হতো সেই রাষ্ট্রনায়ক ৷ যার কাজই হল দেশ ও দেশের মানুষের সেবা প্রদান করা ৷ নিজেকে নিয়োজিত করা দেশের সুযোগ্য সন্তান ও জাতির সেবক হিসেবে ৷ দেশের সকল পরিস্থিতিতে যে সবসময় সামনে থাকে ৷ দেশকে নিজের মায়ের মত ভালবেসে দেশের সম্পদের হেফাজত করে ৷ সম্পদ অর্জন করে এনে দেশকে আরো সম্পদশালী করে সমৃদ্ধ করে তোলে ৷ জাতির বিপদ-আপদে মুক্তির পথ খোলে ৷ ছোট-বড়, ধনী-গরিব ও জাত-বর্ণ ভেদাভেদহীন সবার প্রয়োজনে নিজেকে উপস্থিত রাখে ৷ নিজেকে নয়, জনগণকে রাজত্বের মালিক মনে করে ৷ এক কথায়, জনতার টাকায় বেতনভুক্ত এক মহৎ দায়িত্ববান চাকর বা সেবক ৷ এখানে তো পরিবর্তনের সীমানাই ছাড়িয়ে গেছে; রাজনীতিতে এখন আর নীতির রাজত্ব নেই ৷ ন্যায়-নীতিবান ব্যক্তির অভাব দেখা দিয়েছে ৷ নায়ক সিলেকশনের সুশৃঙ্খল পদ্ধতি এখন ভেজালেভরা উশৃঙ্খল ৷ পরামর্শ বা গণতন্ত্রের ‘শব্দ’ ছাড়া আর সবই অদৃশ্য, যা আমরা সময়ের ভাঁজে ভাঁজে নিজ চোখে প্রতিনিয়তই দেখে আসছি ৷ রাজনীতি এতটাই নষ্টরুপ ধারণ করেছে, যেখানে যোগ্য ব্যক্তিদের ‘নো চান্স’ ! যোগ্যরা সেখানে যেতেও অনিচ্ছুক বা ভয়ে ভীত । কারণ, জীবন নিয়ে তারা আতঙ্কীত ৷ কোনমতে সিলেকশনের মাধ্যমে রাষ্ট্রনায়ক যেই হোক, সে দেশকে নিজ মায়ের মত ভালবাসে কি-না তা বোধের বাহিরে ৷ দেশের সম্পদ হেফাজত কতটা করে তা সবার চোখে দৃশ্যমান ৷ একেকজন নেতা মানেই দেশের টাকায় একেকটি বিদেশী ব্যাংক বললে ভুল হবে বলে মনে হয় না ৷ কারণ, এর বাস্তবতা এ জাতি কম দেখেনি । সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে দেশের সম্পদ কতটা বৃদ্ধি পাচ্ছে না-কি লোট হচ্ছে তা আর অজানা কোথায় ! নিজেকে জনগণের বেতনভুক্ত চাকর ও সেবক ভাবাতো বহুকাল আগের কথা, সেগুলো ইতিহাসেই মানায় । এমনও রাজ্যের রাজা আছে যে পারে না শুধু নিজেকে ভগবান বা আল্লাহ্ বলে ফেরাউন দাবি করতে ৷ জনতার সেবা কে কতটা দিচ্ছে না-কি নিচ্ছে তা জানার বাহিরে নয় । পৃথিবীর চোখেমুখে সবই দৃশ্যমান ৷ সকল পরিস্থিতিতে নিজেকে কে কতটা প্রস্তুত রাখছে, তাও জানা আছে মানুষের ৷ এখনও অনেক দেশে স্বাভাবিকভাবে তাকালেই দেখা যায় ঘর-বাড়িহীন, অধিকারহীন এবং লাঞ্ছিত-বঞ্চিত অগণিত অসহায় মানুষের ভীড় ! এদের জন্য সবখানেই সরকারী বাজেট প্রতিবছর ঠিকই হচ্ছে, কিন্তু টাকাগুলো ঠিকমত সম্পূর্ণভাবে পৌঁছাচ্ছে বললে বড় ভুল হবে ! অধিকার চেয়ে চেয়ে জীবন পর্যন্ত দিয়েছে ও দিচ্ছে কত মানুষ । তারপরও তাদের কানে আওয়াজ খুব কম যায় !

“ক্ষমতায় অন্ধ মানুষ বিবেক বেহুঁশ, দেশ-জাতি যাক ভেসে

নিজকে নিয়েই ভাবনা যাদের সব মরলেও হাসে !

নিয়োজিত নয় সেবকরুপে ভাবনা জাতির খোদা

জনতার খুন চুষে-চুষে গিলে মিটে না তবুও ক্ষুধা ।”

আরো কত সেক্টর রয়েছে, যেগুলোতে উন্নতির জন্য বাজেট হয় ঠিকই হাজার হাজার কোটি টাকা । কিন্তু এতেও কোন উন্নতি নেই ৷ এক বালিশেই কোটি টাকা শেষ ও এক লাইটেই লাখ টাকা শেষ, এভাবেই হিসাবের ভাউচারগুলো পেশ করে জাতিকে বোকা বানানোর চেষ্টায় কমতি রাখছেন না কোন মহাশয় ! জনগণ তাদের বিরুদ্ধে বলার কোন শক্তি রাখে না ! যেই বলবে, তার চৌদ্দগোষ্ঠীসহ জ্যন্ত মরবে ! শুধু নেতা নয়; বরং সরকারী যে কোন চাকরিজীবী ও নেতাদের আমলা-কামলাদের বিরুদ্ধেও সত্য কোনকিছু বলা পাপ, মহাপাপ ! মনে পড়ে গেল শ্রদ্ধেয় হায়দার হোসেন স্যারের একটি গানের কথা…

“আমি সরকারী অফিসার, আমি সরকারী অফিসার

আছে মোর আগে পিছে কত শত তা’বেদার ৷

আমি কত-না সাধনা করে মামার খুঁটির জোরে

অবশেষে হয়েছি আমি এ কালের জমিদার ৷

আমি সরকারী অফিসার, আমি একালের জমিদার

আমাকে ছাড়া চালাবে এদেশ সাধ্য কার বাবার !

আমি আপন মনে চলি, মনে মনে বলি

কিসের নেতা কিসের নেত্রী আমিই তো সরকার !!”

সত্যিই, প্রতিটি পদে পদে আজ সরকারের অভাব নেই ! তাও ভাল ছিল, যদি সবাই নিজেকে জনতার সেবক মনে করতো । কিন্তু তা আর হচ্ছে কোথায় ? সবাই তো রাজা, বাকী সব তুচ্চ প্রজা ! যেভাবে খুশি ব্যবহার করো, ধরো-মারো নো টেনশন ! কৈফিয়ত চাওয়ার সাধ্য কার আছে…!? কে বলেছে, কোন পরিবর্তন হয়নি ! আকাশ-পাতাল ব্যবধানে পরিবর্তন হয়েছে ও হচ্ছে !

“প্রশ্ন করি প্রশাসন নিয়ে; প্রশাসন- জনতার টাকায় বেতনভুক্ত সাহসী-শক্তিশালী প্রহরী আরেক চাকরিজীবীর নাম ৷ যারা নিরপেক্ষতার সাথে দেশ ও জাতির পাশে থেকে সেবা প্রদান করে ৷ সবার কষ্ট বুঝে তা দূর করার চেষ্টায় থাকে ৷ নিজের জীবন বাজি রেখে দেশ জাতিকে উন্নত রাখে । সুস্থ-সঠিক ও শৃঙ্খলা বজায় রাখে এবং সর্বপ্রকার বিপদমুক্ত রাখে ৷ তাদেরও পরিবর্তন হয়েছে; বর্তমানে তারা এক কথায়, ক্ষমতাশীল সরকারের কাঠ-পুতুল ! নেই সেই শক্তি-সাহস ও সামর্থ্য এবং সেবার মনোবল ৷ তারা এখন তাই করে, সরকারী মহল থেকে যা আদেশ করা হয় ৷ এক হিসেবে আজ তারা সিস্টেমের কাছে বড় অসহায় ! জনগণের সুখে-দুঃখে আগের মত তাল মিলিয়ে চলা হয়ে ওঠে খুব কম ৷ আগে যারা বিনা নোটিশেই অপরাধ দমনে নিযুক্ত থাকতো, এখন আর ততোটা দেখা যায় না ৷ কারো বিরুদ্ধে থানায় সত্য মামলা দায়ের করলেও দেখা হয়, মামলা দায়েরকারী আর অপরাধী কোন দলের বা কোন পরিবারের বা কতটা সম্পদশালী কিংবা কতটা নিম্ন না-কি মধ্যবিত্ত । অথচ অতীতে যারা কোন চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই সত্যের খোঁজে নেমে যেত । চিহ্নিত অপরাধীকে ঠিকই ধরে নিয়ে এসে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় নিয়ে যেতো ৷ বর্তমানে অনেকে তো টাকা ছাড়া কোন এ্যাকশন নিবে তো দূরের কথা মামলাই নিবে না ৷ আর রাস্তা-ঘাটের ব্যাপারগুলো তো প্রকাশ্যেই দেখা যায়, কে কার কাছ থেকে কত হাতাতে পারে এ নিয়ে চলে বিশাল প্রতিযোগিতা ! স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে যারা নিরপরাধকে মারতেও পারে, দাগী আসামিকে নির্দোষ সার্টিফিকেট দিয়ে ছাড়তেও পারে । এই হল বর্তমান পৃথিবীর অধিকাংশ প্রশাসন । এখানেও হয়েছে সমুদ্রের পরিমাণ পরিবর্তন । কে বলেছে পরিবর্তন হয়নি ! পরিবর্তন হয়েছে এবং হচ্ছে !

পরিবর্তন

“প্রশ্ন করি ডাক্তার প্রসঙ্গে; ডাক্তার, এ নামটি শুনলেই মন থেকে শ্রদ্ধা আর বিশ্বাস চলে আসে । কারণ, তারা বাস্তবেই এমন মহৎ ব্যক্তিত্বের অধিকারী, যারা মৃত্যুর দুয়ারের মানুষটিকে কথায়-সেবায় ও যতনে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনেন ৷ জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব মানুষই তাদের হাতের সংস্পর্শে যেতে হয় ৷ প্রয়োজনে তাদের পরামর্শে সারাটি জীবন চালাতে হয় ৷ অন্যথায় জীবন হয়ে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ মৃত্যুকূপ ৷ জীবন বাঁচানো ও সুস্থ জীবন উপহার দেয়া যাদের মহান দায়িত্ব ও নৈতিক কর্তব্য ৷ দুর্ভাগ্যবশত তাদের মধ্যেও বহু পরিবর্তন এসেছে; সেগুলোর মধ্য থেকে বিশেষ পরিবর্তন হলো, আজ তাদের মধ্যে (অল্প কিছু বাদে) অধিকেরাই বিশ্বের সেরা বিজনেসম্যান হয়ে ওঠেছে ! যাদের কাছে জীবনের চেয়ে টাকার মূল্য বড় বেশি ৷ মরে যাক হাজার-জন তাতে তার কিছু যায় আসে না ৷ সেবা জিনিসটি দুঃখজনকভাবে তাদের ভিতর থেকে উধাও হয়ে গেছে ৷ মাথায় ঢুকে গেছে কীভাবে বেশি বেশি টাকা হাতানো যায় ৷ সাধারণ জ্বর-সর্দি হলেও অযথাই এই টেষ্ট, হেই টেষ্টের নামে বিশাল লম্বা একটি বিল ধরিয়ে দেয়া যাদের বর্তমান ফ্যাশন হয়ে গেছে ৷ খুব ভয়ানক দুঃখের কথা হলো, লাশ নিয়েও এখন তাদের রমরমা ব্যবসা চলে ! গরিব আর মূর্খদের এক ধরণের চিকিৎসা । শিক্ষিত আর ধনীদের জন্য অন্যরকম চিকিৎসা ! কি এক থিউরি তাদের ! অথচ সবার কাছ থেকে সমানহারে টাকার অংকটা ঠিকই নিয়ে নিচ্ছে ৷ রুগী সুস্থ হলে হোক বা না হোক, তার সফল বিজনেস ঠিকই চলছে ! করোনাকালে এবং এর আগে ও পরে আমাদের দেশেই দেখেছে মানুষ তাদের বহু-রূপ । সরকারও ঐসমস্ত ব্যবসায়ী নামের কসাইদের বিরুদ্ধে অনেকবারই পদক্ষেপ নিয়েছে । তা সবার চোখের সামনেই ভাসমান । কে বলেছে পরিবর্তন হয়নি ! সীমানা ছাড়িয়ে পরিবর্তন তার নিজ পথে চলছে ও হচ্ছে !

“প্রশ্ন করি বিভিন্ন সিস্টেমকে কেন্দ্র করে; সিস্টেম, নিয়ম বা পদ্ধতি, যার মাধ্যমে সবকিছুর শৃঙ্খলা বজায় রাখা হতো ৷ যেখানে যা প্রয়োজন সেখানে তার প্রয়োগ করা হতো ৷ যার যে অধিকার তা পূর্ণ করা হতো ৷ যার যা পাওনা তা বুঝিয়ে দেওয়া হতো ৷ যার যা নয় তা আদায় করে নেওয়া হতো ৷ মোটকথা, সুখ-শান্তি, শৃঙ্খলা, অধিকার এবং ন্যায়বিচার যার মূল লক্ষ্য । এখানে পরিবর্তন তার মাত্রা হারিয়ে পৃথিবী ছাড়িয়ে আরও বহুদূরের পথ বাছাই করেছে । প্রায় দেশেরই- দূর্নীতি দমন কমিশন, নিজেরাই দূর্নীতিবাজ । দমন আর কে করবে ? মানব পাচার রোধ কমিটি, নিজেরাই মানব পাচারকারী । রোধ করবেটা কে ? মাদক নির্মূল কমিটি, ৯০% এরও বেশি নিজেরাই মাদকাসক্ত বা অনেকেই মাদক এজেন্ট । মাদক নির্মূল করবে কে এসে ? মানবাধিকার কমিটি, নিজেরাই মানুষের অধিকার হাতিয়ে নেয় যদি, অধিকারটা আসবে কোত্থেকে ? স্বাস্থ্যকল্যাণ মন্ত্রণালয়, নিজেরাই যদি ভেজাল, অস্বাস্থ্যকর পন্যদ্রব্য আমদানি-রপ্তানি করে, তাহলে স্বাস্থ্যের উপায় কী হবে ? পানি মন্ত্রণালয় যদি নিজেই পানিচোর হয়, মানুষ পানি পাবে কোথাও ? এমনিভাবে প্রত্যেকটা পদে পদে যদি পরিস্থিতিটা এমনই হয়, তাহলে সে রাষ্ট্রগুলোর অবস্থা কতটা বিপদজনক ও ভয়ংকর রকমের হবে তা চোখের সামনে দেখে দেখে সহজেই অনুমান করা যায় । দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমান বিশ্বের বেশিরভাগ পরিস্থিতি এমনই । সংক্ষেপে এভাবে বলা যায়- মামু-খালু যেখানে সিস্টেম বিক্রি সেখানে ৷ চারদিকে আজ বিচারহীনতায় ভুগছে মানুষ, এসব খুব নতুন কিছু নয় ৷ বিচার না পেয়ে অসহায় হয়ে অনেকে জীবন পর্যন্ত দিয়ে দিয়েছে ও দিচ্ছে ৷ সিস্টেম আজ টাকার, সিস্টেম আজ ক্ষমতার ৷ ক্ষমতা আর টাকার কাছে সিস্টেম কিছুই না ৷ যখন যা প্রয়োজন তা না করে ভিন্ন কিছু করে অবস্থাকে ঘোলাটে করে ফেলা হয় ৷ যখন জিনিসের দাম কমানোর দরকার তখন অসাধুরা দেয় দ্বীগুণ বাড়িয়ে সিস্টেম কিছুই বলতে পারে না, করে না । অসহায়ের মত অন্ধ হয়ে চেয়ে থাকে ! যে চাওয়ার কোন ভালো অর্থ নেই । কে বলেছো, পরিবর্তন হয়নি । চেয়ে দেখো পরিবর্তনেরই আজ রাজত্ব চলছে ও চলবে !

পৃথিবীর এমন বাস্তবতা সম্পর্কে আমরা কম-বেশি প্রায় সবকিছুই জানি ৷ তবে এসবের মধ্য দিয়েও এখনও কিছু ভাল ও ভাল মানুষ রয়েছেন যারা শত কষ্ট ও বাধার সম্মুখীন হয়েও নিজেকে শুদ্ধতার ওপর স্থীর রেখেছেন ৷ সেই সকল মহাবীরদের প্রতি জানাই অন্তর থেকে ভালবাসা ও শ্রদ্ধার স্যালুট্ ৷ তোমাদের প্রতি আমাদের এ শ্রদ্ধা চিরকাল থাকবে । তোমাদের মতই দেখতে সেইসব অসৎ লোকেরা পারবে না তোমাদের মর্যাদা ছিনিয়ে নিতে । তোমরা থাকো অবিচল শুদ্ধ ও সঠিক পথে । আমাদের কোটি হৃদয়ের গহীন ভালোবাসা আছে তোমার শক্তি হয়ে এবং চিরকাল থাকবে । বাস্তবে এভাবেই পরিবর্তন হয়ে চলেছে সবকিছুর ৷ পরিবর্তন শব্দের মানেই তো “এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়া” এমনটা তো আমাদের সবার চোখের সামনে দিয়েই হচ্ছে ৷ তারপরও আমরা বোকার মত প্রশ্ন করি ‘কবে হবে পরিবর্তন ?’ তবে, বড় আফসোসের বিষয় হলো- আমরা যেই পরিবর্তনের কথা বলছি, যেই পরিবর্তনের প্রত্যাশী এবং যেই পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখে অপেক্ষায় রয়েছি ‘খারাপ দিকগুলো ভালোর দিকে পরিবর্তনের কথা’ সেই পরিবর্তনটা খুব কমই হচ্ছে ৷ তবুও আমরা হাল ছাড়িনি, এখনও অপেক্ষা করি শুভ পরিবর্তনের একটি নতুন সূর্যের । হয়তো একদিন মানুষেরা ভালো কিছুর মাধ্যমে পৃথিবীকে সে সূর্যটি উপহার দিবে ।

লেখক: রাশিদুল ইসলাম ফারাবী

 

1 thought on “অতীত ও বর্তমান, কবে হবে পরিবর্তন?”

Comments are closed.